You are currently viewing ব্যাংক জব প্রস্তুতি: কম সময়ে যেভাবে নিবেন

ব্যাংক জব প্রস্তুতি: কম সময়ে যেভাবে নিবেন

বর্তমান তরুণদের একমাত্র লক্ষ্য শিক্ষা শেষ করে স্মার্ট ক্যারিয়ার গড়ে তোলা। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে তরুণ প্রজন্ম এখন ব্যাংকের চাকরিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে পেশা হিসেবে ব্যাংকিং জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিসিএসের মতোই ব্যাংক পরীক্ষা অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক। তাই আজকের পোস্টে, কম সময়ে কিভাবে ব্যাংক জব প্রস্তুতি (Bank Job Preparation) নিবেন! এই নিয়ে আলোচনা করা হবে।

এছাড়াও ব্যাংক জব যোগ্যতা, ব্যাংক জব সিলেবাস ও মানবন্টন, ব্যাংক জব পরীক্ষা পদ্ধতি, প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি ও মানবন্টন, ব্যাংক জব ভাইভা প্রস্তুতি, ব্যাংক জব প্রস্তুতির জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস নিয়ে কথা হবে।

ব্যাংকে চাকরির যোগ্যতা

আপনার ব্যাংক জব প্রস্তুতি শুরু করার আগে, আপনাকে অবশ্যই একটি ব্যাংকে চাকরির যোগ্যতা সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।

ব্যাংকে চাকরি পাওয়া বা করার জন্য “ব্যাকগ্রাউন্ড” বিশেষ কোনো ফ্যাক্টর নয়, আসল বিষয় হলো পরীক্ষায় ভালো করা।

সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির যোগ্যতায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। নিচে বিভিন্ন ব্যাংকে চাকরির যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

সরকারি ব্যাংক জব যোগ্যতাবেসরকারি ব্যাংক জব যোগ্যতা
সরকারি ব্যাঙ্কগুলি সাধারণত সিনিয়র অফিসার, অফিসার (জেনারেল), অফিসার (ক্যাশ) এবং সিনিয়র অফিসার পদে সরাসরি নতুন কর্মচারী নিয়োগ করে।প্রাইভেট ব্যাঙ্কগুলি তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রেইনি অফিসার, প্রবেশনারি অফিসার, এক্সিকিউটিভ অফিসার, কাস্টমার সার্ভিস অফিসার, সেলস অফিসার, রিলেশনশিপ অফিসার ইত্যাদি নিয়োগ করে।
সরকারি ব্যাংকগুলোতে ব্যাংক জব পরীক্ষার মাধ্যমে পারদর্শী ও অভিজ্ঞ লোকজন নিয়োগ দিয়ে থাকেন।বেসরকারী ব্যাঙ্কগুলি English Language Proficiency Level, Computer Literacy skill, Leadership Skills এবং বেশ কিছু বহির্মুখী কার্যকলাপের উপর বেশি জোর দেয়।

ব্যাংক জব পরীক্ষা পদ্ধতি

ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষা মূলত তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষা মূলত তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ এখন অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যাংক জব প্রস্তুতি এর উপর কোর্স করিয়ে থাকেন। এছাড়াও ব্যাংক জব বই কিনে প্রস্তুতি নিতে পারেন।

ব্যাংকে চাকরির সিলেবাস ও মানবন্টন

নিচে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক জব পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন নিয়ে আলোচনা করা হলো-

১. সরকারি ব্যাংক জব সিলেবাস ও মানবন্টন

পরীক্ষার নামনম্বর
প্রিলিমিনারি পরীক্ষা১০০ নম্বর
লিখিত পরীক্ষা২০০ নম্বর
মৌখিক পরীক্ষা২৫ নম্বর

২. বেসরকারি ব্যাংক জব সিলেবাস ও মানবন্টন

বেসরকারি ব্যাংকে প্রিলিমিনারি লিখিত পরীক্ষা সাধারণত একই দিনে একই প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হয়।

  • প্রাইভেট ব্যাংকগুলোতে প্রিলিমিনারি এবং লিখিত পরীক্ষায় মোট ৮০-১০০ নম্বর নিয়ে থাকে। এর মধ্যে ৫০-৮০ নম্বর সাধারণত প্রিলিমিনারি বিভাগে এবং ২০-৪০ নম্বর লিখিত বিভাগে থাকে।
  • প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
  • এই পরীক্ষায়, MCQ পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা এবং লিখিত অংশের জন্য ৩০ মিনিট থেকে ৪৫ মিনিট বরাদ্দ করা হয়ে থাকে।

বেসরকারি ব্যাংক জব পরীক্ষায় সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান, সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার এবং তথ্য প্রযুক্তি থেকে প্রশ্ন করা হয়।

সরকারি ব্যাংক জব প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মানবন্টন

সরকারি ব্যাংকের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সাধারণত ১০০ নম্বরের MCQ পরীক্ষা থাকে। এখানে প্রার্থীকে ১ ঘন্টায় ১০০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হয়।

বিষয়মোট নম্বর
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য২৫
ইংরেজি২৫
সাধারণ গণিত ও মানসিক দক্ষতা২০
সাধারণ জ্ঞান২০
আইসিটি (ICT)১০
সর্বমোট১০০

সরকারি ব্যাংক জব লিখিত পরীক্ষার মানবন্টন

ব্যাংক জব প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থী তার কাঙ্খিত চাকরি পাবে কি না তা মূলত এই লিখিত পরীক্ষার উপর নির্ভর করে।

ব্যাংকে চাকরির লিখিত পরীক্ষায়, একজন প্রার্থীকে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে যার সময়কাল ২ ঘন্টা

বিষয়মোট নম্বর
Focus Writing in Bangla৩৫
Focus Writing in English৩৫
Argument Writing৩০
Mathematics৩০
Translation২০
General Knowledge৩০
Comprehension২০
সর্বমোট২০০

ব্যাংক জব ভাইভা প্রস্তুতি

ব্যাংক জব পরীক্ষার প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ হল ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা। ব্যাংকের ভাইভা পরীক্ষায় সাধারণত ২৫ নম্বর বরাদ্দ করা হয়।

এখানে, ব্যাংকিং সম্পর্কিত কিছু মৌলিক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়। এছাড়াও ব্যাংকের ভাইভা পরীক্ষাগুলোতে প্রার্থীকে যে ধরণের প্রশ্ন করা হয়ে থাকে:-

  • তার নিজের জেলা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য
  • ব্যাংকিং সম্পর্কিত বিভিন্ন পদ
  • সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে
  • যে ব্যাংকে ভাইভা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেই বিষয়ে
  • স্নাতক স্তরে অধ্যয়ন করা বিষয় সম্পর্কে

ব্যাংকে চাকরির প্রস্তুতির জন্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস

  1. প্রথমেই আপনার লক্ষ্য স্থির করুন। কারণ আপনি নিজের লক্ষ্য অবিচল থাকলে পড়াশোনা আপনার জন্য কোন কঠিন কাজ হবে না।
  2. প্রথমে আগের বছরের ব্যাংক চাকরির প্রশ্নগুলো সমাধান করুন। এটি আপনাকে প্রশ্নের প্যাটার্ন সম্পর্কে ধারণা নিন।
  3. বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিতে ইংরেজি ও গণিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই ইংরেজি এবং গণিতে আপনার দক্ষতা যত বেশি, সাফল্যের সম্ভাবনা তত বেশি।
  4. আপনার এক বিষয়ে বেশি পারদর্শী হওয়া এবং অন্য বিষয়ে দুর্বলতা থাকা উচিত নয়। পরীক্ষায় প্রশ্নের প্যাটার্নে অনেক হিসাব-নিকাশ পাল্টে যায়। তাই ঝুঁকি নেবেন না।
  5. ব্যাংক গণিতে ভালো করতে প্রতিদিন অন্তত দেড় থেকে দুই ঘণ্টা এই বিষয়ের অনুশীলন করুন। অনুশীলন ছাড়া আপনি কখনই গণিতে ভাল করতে পারবেন না। তাছাড়া গণিতের প্রশ্নও হবে ইংরেজিতে। তাই প্রশ্নটি বোঝা এবং উত্তর দেওয়াও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
  6. ইংরেজির ক্ষেত্রে, আপনাকে আপনার শব্দভান্ডারের জ্ঞান অনেক বাড়াতে হবে, ব্যাকরণের মূল বিষয়গুলি ভাল রাখতে হবে এবং অনুবাদে খুব ভাল হতে হবে।
  7. একটানা কোনো বিষয়ে পড়তে যাবেন না। এতে আপনার মনোযোগ থাকবে না। এই ক্ষেত্রে, আপনি চাকরির প্রস্তুতির সম্পূর্ণ রুটিন বানিয়ে অনুসরণ করতে পারেন।
  8. এ ছাড়া বাংলা, সাধারণ জ্ঞান এবং কম্পিউটার বিষয়ে ভালো করার জন্য যেকোনো প্রকাশনা অনুসরণ করতে পারেন।
  9. আপনি যাই পড়ুন না কেন, রিভিশনের বিকল্প নেই। আপনি যা পড়েছেন তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যা আপনার স্মৃতিতে সেট করা হয়েছে।
  10. ব্যাংক জব প্রস্তুতির ক্ষেত্রে, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি হিসাবে যতটা সম্ভব চূড়ান্ত মডেল টেস্ট দিন। এটি আপনাকে পরীক্ষার হলের সময় বন্টন সহ ব্যাংকের চাকরি সম্পর্কে খুব ভাল ধারণা দেবে।